Hot Posts

6/recent/ticker-posts


 অলৌকিক_মায়া_জাল (পর্ব -০১)


ঘুম থেকে উঠতেই দেখি আমার বুকের উপর এক যুবতি মেয়ে শুয়ে আছে। হুট করেই এক লাফ মেরে উঠে দাঁড়ালাম। একি? মেয়েটি মৃত..!!  বুকের ভিতর চিনচিন করে উঠে আমার। এ কোন বিপদে পড়লাম।এই মেয়েটি বা কে।আমার বুকের উপর আসলো কিভাবে।তাছাড়া আমি ও কোথায়? 


চারপাশ ভালো করে তাকিয়ে দেখি জায়গাটা অছেনা। রুমটি দেখতে বেশ ভালো,তবে আমার জন্য মোটেও সুবিধার নয়। আরেকবার মেয়েটির নাক পরিক্ষা করে বুঝলাম,সত্যিই মেয়েটা মৃত।  ভয়ে বাহির হওয়ার রাস্তা খুজতে লাগলাম আমি। দরজা থেকে বাহির হতে যাবো,ঠিক তখনি একটা কেও জেনো মাথার উপর সজোরে আঘাত করে।


-- মাগো মা,ওওও মা,,,গেলাম রে গেলাম। ভূত ভূত ভূত


-- কিরে হারামজাদা।এই সাজ সকাল ভ্য ভ্য করছিস কেন। পাশের বাড়ির ছাগটাও তো এমন ভাবে চিৎকার দেয়না।


( আসলে স্বপ্ন ছিলো একটা। আম্মু এতক্ষন দোয়া করে চলে গেলেন।কেমন দোয়া করেছে তা তো বুঝতেই পারছেন। যাইহোক , গত ৪ বছর ধরেই আমি এই একই স্বপ্ন দেখে আসছি। জানিনা কেনো এমন হচ্ছে আমার সঙে। প্রতি ২-৩ দিন পর পর এই স্বপ্ন আমাকে তাড়া করে। স্বপ্নে আসা মেয়েটি আসলে কে।আর আমাকে এই একই স্বপ্নই বা কেনো দেখায়,জায়গাটা বা কোথায়।হাজারো প্রশ্ন মাথার উপর দিয়ে চলে যায়,অথচ মাথায় কোনো চুল ও ঢুকেনা।


একদিন সকাল সকাল একটা মেয়ে জানালা দিয়ে আমার পা ধরে টেনে বাহির করে পেলেছিলো। ভয়ে যখনি আমি চোখ খুলে ফেলি,দেখি পায়ের জায়গায় পা ঠিকই আছে,আমিই শুধু শুধু বাহিরে চলে এসেছি।

না!! সত্যিই কেও এনেছে আমাকে। স্বপ্নে আমি মেয়েটিকে দেখেছি। আমার পা ধরতেও দেখেছি। অনুভব ও করেছি। কিন্তু চোখ খোলার পর সবই বাস্তবে রুপান্তিত হলেও,মেয়েটিকে খুজে পাইনি।


এমন অদ্ভুত ঘটনা আমার সাথে রোজ ঘটে যাচ্ছে। কাওকে বলতেও পারিনা। যদি প্রথম প্রথম বলতাম,সবাই বলতো " বেয়াদবির একটা ফাজলামি থাকা দরকার।আর এমন আজগুবি গল্প শুনাবি তো কানের মাঝ সেন্টারে ৩ টা মারুম,সব স্বপ্ন হাওয়া হইয়া যাইবো"।

কি সুন্দর বানীটাই না শুনতাম।এরপর থেকে আর কাওকেই কিছু বলিনা আমি। আজকে তো এই স্বপ্নটা দেখলাম।এমনিতেই ঘাবড়ে আছি। তাই তাড়াতাড়ি করে বিচানাকে তালাক দিয়ে ফ্রেশ হতে গেলাম। বিচানা আমার খাটের কথাই বলছি।অন্য কিছু বুঝলে আপনার দোষ।


ফ্রেশ হয়েই জামাকাপড় পড়ে নিলাম।আম্মু খাবার রেডি করে রেখেছে।তাই চিন্তার কোনো কারণ নেই। টেবিলের সামনে এসেই রাম কোপানো কোপাতে লাগলাম। খাবার খেয়েই আম্মুকে বিদায় দিয়ে অফিসের উদ্দেশে রওনা দিলাম। ওহ বলা হয়নি।আমি একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে জব করছি। মানে নিজেই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। বেতন খারাপ না,মাসে ২৮ হাজার সেলারি। সব কিছু ঠিক থাকলেও দুইটা জিনিসের কস্ট আমার।একটা হচ্ছে সেই স্বপ্নটা।যা আমাকে প্রতিনিয়ত ভয়ে ভয়ে এগিয়ে নিচ্ছে। আর আরেকটা হচ্ছে,,থাক লজ্জা করতাছে,তাও বলা তো লাগবেই। কি আর করার,বলেই ফেলি। আসলে একটা বউ দরকার। জীবনের অর্ধেক সময় তো কাজের পিছনেই ব্যয় করলাম।এবার একটা বউ হলে মন্দ না।আম্মুকে বলবো বলবো ভাবছি, তাও লজ্জার মাথা খেয়ে বলতে পারছিনা।


অফিস শেষ করে বাড়িতে ফেরার সময় হয়ে গেছে। রাত ১১:৩৭ বাজে। আজকে এমনিতেই অফিসে কাজের চাপ বেশি ছিলো। যেখানে ৯ টায় আসার কথা,সেখানে এতো দেরি করে ফেললাম।ফোনেও চার্জ দিতে ভুলে গেছিলাম। আম্মুকে কল করা হয়নি।এতক্ষনে হয়তো চিন্তা চিকন কাট হয়ে গেছে। কিছুদূর হাটতেই একটা রিক্সা দেখতে পেলাম।মনে মনে ভাবছি,সি এন জি এর অপেক্ষা করতে করতে রিক্সা দিয়েই চলে যাই। হয়তো আরো তাড়াতাড়ি বাড়ি যেতে পারবো। রিক্সাওয়ালাকে ডাক দিতেই উনি সামনে এসে হাজির। মাত্র ৩০ মিনিটের পথ।ভাড়া বেশি না,হয়তো ৮০-৯০ টাকা হবে।তাই আর ভাড়ার ব্যাপারে কথাও বলিনি। রিক্সা চালকও আমার সাথে কথা না বলে ছুটতে লাগলো।


রিক্সা চালককে আমি ৫ মিনিট পর কয়েকটা কথা জিজ্ঞাস করলাম।কিন্তু উনি উত্তর দিচ্ছেনা। হুহহ,তাতে আমার কি। উনি ভাব নিচ্ছেন হয়তো।এতে আমার কোনো চুলও না। প্রায় ১০ মিনিট পর হুট করেই তিনি রিক্সা দাড় করিয়ে আমাকে বলল।


-- মামা, নাইমা পড়েন।


-- আরে ওই মিয়া, এইটা কোথায় নিয়ে আসলেন। এইটা তো আমার বাসা না।


-- আপনি নাইমা যাইবেন,নাকি ঠ্যালা দিয়া নামামু।


রিক্সাওয়ালার এমন তেজি মার্কা কথা শুনে সাদাসিধা ভদ্র ছেলের মতো নেমে গেলাম।আমার নামতে দেরি,রিক্সাওয়ালার ঝড়ের গতিতে রিক্সা যেতে দেরি হয়নি। মনে হলো কোনো বাইক ৯০ স্পিডে আমার সামনে দিয়ে গেলো। তারমানে আমি এতক্ষন এই স্পিডেই এসেছি?

নাহ ভাবতে পারছিনা। আগে দেখি জায়গাটা চেনা নাকি। আশপাশ ভালো করে তাকিয়ে দেখি রাস্তার দুইপাশেই বড় বড় গাছ। আমি একটা বিল্ডিং এর সামনে দাঁড়িয়ে আছি। রাস্তার পাশে শুধু একটা লাইট জ্বলছে।তাও নিম নিম করছে। মনে হচ্ছে ৩০ ওয়াল্টের লাইট। দুরের কিছুও স্পষ্ট বুঝতে পারছিনা। এবার একটু ভয় কাজ করতে লাগলো নিজের ভিতরে।এদিকে ফোনেও চার্জ নেই যে কিছু একটা করবো।রাস্তাও পাকা।ওমা,রিক্সাওয়ালা তো ভাড়াও নেয়নি। বুঝলামনা,কিছু তো একটা ব্যাপার আছে।


তখনি চোখের মাঝে একটা হলুদ কিছু দেখতে পেলাম। কিছুটা দুরেই আছে। মনে হচ্ছে কোনো চিহ্ন। একটু এগুতেই যা দেখি,তাতেই আমার ১০৩ ডিগ্রি জ্বর চলে আসে। হাত পা কাপতে থাকে আমার।

দেখতে পেলাম, ওখানে বড় বড় করে লেখা আছে

*- ঢাকা--৪২৬ কিলোমিটার -*।


আমি এতো দূরে কিভাবে এলাম। তাছাড়া কেমনে সম্ভব।  উফফ ফোনটাও বন্ধ।গলা শুকিয়ে তক্তা হয়ে আছে। রাস্তায় কোনো মানুষ ও নেই।হাত ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ১২:০৮ বাজে। হাটু কাপাকাপি কাকে বলে,তা আজ বুঝতে পারছি। এদিকে হিসুও ধরেছে। কিন্তু ভয়ের ঠেলায় হিসুটাও মনে হয় করা হবেনা।  হাত গুটিশুটি মেরে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছি,যদি কোনো মানুষ বা গাড়ির দেখা পাই আরকি।এদিকে আমি ৪২৬ কিলোমিটার দূরে আছি।জানিওনা কোথায় আছি। তবে ভিতরে কি পরিমাণ তুপান হচ্ছে,তা আমি বুঝতে পারছি।


চারদিক ঝি ঝি পোকার শব্দটাও খুব ভয় পাইয়ে দিচ্ছে। এদিকে নিম নিম করা ৩০ ওয়াল্টের লাইটটাই আমার একমাত্র কম্বল,থুক্কু সম্ভল।কিন্তু সেটাও আর বাকি রইলো না। লাইটা হুট করেই বন্ধ হয়ে গেলো।


মাগো মা,ওও মা। মা আমারে বাচা,তোমার পোলা তো ভুতের কাছে চইলা আইছে। ওওও মারে মা।


দিলাম কান্না করে। তখন মনে হচ্ছিলো আমি কোনো অন্ধকার রুমে বন্ধি আছি। নিজের দেহটা পর্যন্ত দেখতে পারছিনা। আর নিজেকে কি আর দেখবো। ভয়ে কিছু করতে না পেরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অন্ধকারেই কান্না করতে লাগলাম। নিজে নিজে কান্না করছি,আর ভয়ে ভয়ে নিজের দেহ নিজেই টাচ করে চেক করছি,যে আমার দেহটা কি এখনো আছে নাকি ভুতে খেয়ে পেলছে সেই ভেবে।


হটাত একটা হাত আমার কাধে পড়লো।


চলবে.......

Post a Comment

0 Comments